ঢাকা

ইসলামী রাজনীতি ও দ্বীন কায়েমের আন্দোলন কেন গুরুত্বপূর্ণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ১৪ জুন ২০২৬ ইং
ছবির ক্যাপশন:
ইসলামী রাজনীতি ও দ্বীন কায়েমের আন্দোলন কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভূমিকা
ইসলাম কেবল কিছু ব্যক্তিগত ইবাদত-বন্দেগির নাম নয়; বরং এটি মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের জন্য আল্লাহপ্রদত্ত একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।

মুসলমানদের বিশ্বাস হলো, মানবজাতির কল্যাণের জন্য আল্লাহ তাআলা যে বিধান দিয়েছেন, তা জীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করা উচিত। এ কারণেই ইসলামের অনুসারীরা মনে করেন যে, দ্বীনের শিক্ষা সমাজে প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোর একটি।

দ্বীন প্রতিষ্ঠার কুরআনিক নির্দেশনা
আল্লাহ তাআলা সূরা আশ-শূরার ১৩ নম্বর আয়াতে বলেন: "তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং এতে বিভেদ সৃষ্টি করো না।"
এ আয়াতের আলোকে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ ব্যাখ্যা করেছেন যে, দ্বীন প্রতিষ্ঠা বলতে শুধু ব্যক্তিগতভাবে ইসলাম পালন নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনেও ইসলামের ন্যায়নীতি, নৈতিকতা এবং বিধান কার্যকর করার চেষ্টা অন্তর্ভুক্ত।

রাসূল (সা.)-এর জীবন ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি শুধু একজন ধর্মীয় উপদেশদাতা ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন সমাজ সংস্কারক, রাষ্ট্রনায়ক, বিচারক ও সামরিক নেতা। মক্কায় তিনি মানুষের আকীদা ও চরিত্র গঠনের কাজ করেন এবং মদিনায় ইসলামী সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।

হিজরতের পর মদিনায় তিনি এমন একটি সমাজ গড়ে তোলেন যেখানে ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা, জবাবদিহিতা এবং আল্লাহর বিধানের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হতো। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা মনে করেন, রাসূল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করতে হলে সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্যও কাজ করতে হবে।

ইসলামী রাজনীতির ধারণা
ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজনীতি হলো ক্ষমতা অর্জনের জন্য প্রতিযোগিতা নয়; বরং মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্যায় প্রতিরোধ এবং আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী সমাজ পরিচালনার প্রচেষ্টা।
এ কারণে অনেক ইসলামী চিন্তাবিদ মনে করেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং রাজনীতি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাদের মতে, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য সাংগঠনিক প্রচেষ্টা, দাওয়াত, সংস্কারমূলক কার্যক্রম এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।
কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে শাসনব্যবস্থা
সূরা আল-মায়িদার ৪৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দেন:
"তুমি তাদের মধ্যে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তা অনুযায়ী ফয়সালা করো এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না।"
এ আয়াতকে ভিত্তি করে অনেক আলেম মত প্রকাশ করেছেন যে, মুসলমানদের উচিত জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করা।
জিহাদ ও প্রচেষ্টার গুরুত্ব
সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) জিহাদের প্রতি আন্তরিকতা ও দ্বীনের জন্য সংগ্রামের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা এ হাদিস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে মনে করেন যে, দ্বীনের প্রতিষ্ঠা, সত্যের পক্ষে অবস্থান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম মুসলমানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তবে এ বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ সম্পর্কে মুসলিম আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন মত ও ব্যাখ্যা রয়েছে। তাই কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক অবস্থানকে ঈমান বা কুফরের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
উপসংহার
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা—এ বিশ্বাস থেকে বহু মুসলমান সমাজে ন্যায়বিচার, নৈতিকতা এবং ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করেন। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা, দাওয়াত, সমাজ সংস্কার এবং ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তোলাকে তারা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করেন। মুসলমানদের কর্তব্য হলো জ্ঞান, প্রজ্ঞা, নৈতিকতা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে ইসলামের আদর্শ সমাজে প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করা এবং মতপার্থক্যের ক্ষেত্রেও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা।
কমেন্ট বক্স